এখন বাথের দর এত বাড়ছে কেন
বাথের দরবৃদ্ধি সামাল দিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে থাইল্যান্ড। এ বছর এশিয়ার সবচেয়ে ভালো করা মুদ্রাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে বাথ। বছরের শুরু থেকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে মুদ্রাটির দর প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে প্রায় ৩১.৭ বাথে পৌঁছেছে, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। শক্তিশালী বাথ আমদানি ব্যয় কমায়, তবে রপ্তানির প্রতিযোগিতা সক্ষমতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে এবং বিদেশি পর্যটকদের কাছে থাইল্যান্ডে ভ্রমণকে ব্যয়বহুল করে তোলে। বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামায় সংবেদনশীল ব্যবসাগুলোকে সুরক্ষা দিতে এবং অতিরিক্ত দর-ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সূচিপত্র
- এখন বাথের দর এত বাড়ছে কেন
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা
- সোনার লেনদেনের অর্থপ্রবাহে নজর
- থাইল্যান্ডে সোনার বাণিজ্য যেভাবে মুদ্রার দরকে প্রভাবিত করে
- বিবেচনাধীন নীতিগত পদক্ষেপ
- বিদেশে রাখা আয়ের সীমা বাড়ানো
- সুদের হার ও নাজুক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার
- শক্তিশালী বাথ যেভাবে রপ্তানি ও পর্যটনকে প্রভাবিত করে
- জল্পনামূলক লেনদেন নিয়ে আগের বিধিতে যা বলা আছে
- বিনিয়োগকারী ও ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
- মূল বিষয়গুলো
কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকটি কারণে বাথের দর বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহজতর মুদ্রানীতির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা, ফলে ডলারের দর কিছুটা কমেছে। থাই রপ্তানিকারকেরা বৈদেশিক মুদ্রায় পাওয়া আয় বিক্রি করছেন। বন্ডে অর্থপ্রবাহও বেড়েছে। বিশ্ববাজারে সোনার দামের বড় উল্লম্ফন বাথের দরবৃদ্ধিতে আরও গতি জুগিয়েছে। সোনার দাম বাড়লে থাই পরিবারগুলো মুনাফা নিতে সাধারণত সোনা বিক্রি করে। এরপর সোনার দোকানগুলো তা বিদেশে বিক্রি করে ডলার পায় এবং ক্রেতাদের অর্থ দিতে সেই ডলার বাথে রূপান্তর করে। এতে বাথের চাহিদা বাড়ে এবং বিনিময় হার আরও ওপরে ওঠে। সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পেছনে এই প্রবণতাকে গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা
বৈধ বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে বাথের দরবৃদ্ধির চাপ কমাতে নতুন একটি পদক্ষেপের প্যাকেজ তুলে ধরেছে ব্যাংক অব থাইল্যান্ড। সোনা-সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে ব্যাংকগুলোকে লেনদেনের আগে আরও কঠোর যাচাই করতে হবে। সোনার বড় ব্যবসায়ীদের লেনদেনের তথ্য দিতে বলা হবে, যাতে সোনার বাণিজ্য ও বাথের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা অর্থপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করতে পারে কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা সতর্ক থাকবে এবং প্রয়োজন হলে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করবে।
বিদেশে অর্জিত যে আয় দেশে ফিরিয়ে আনতে হয় না, তার সীমাও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে নিয়ন্ত্রকেরা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি লেনদেনে সীমা ১ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করা হবে। বছরের শেষ নাগাদ কার্যকর হওয়ার কথা থাকা এই পরিবর্তনে কোম্পানিগুলো বিদেশে আয় ধরে রাখতে এবং একই মুদ্রায় ব্যয় মেটাতে আরও নমনীয়তা পাবে। বাথে রূপান্তর করতে হয় এমন অর্থের পরিমাণ কমিয়ে বিনিময় হারের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ কমাতে চায় কর্তৃপক্ষ।
সোনার লেনদেনের অর্থপ্রবাহে নজর
থাইল্যান্ডের মুদ্রাবাজারের গতিপ্রকৃতিতে সোনার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এ বছরের শুরুর দিকে সোনা রপ্তানি বেড়েছিল, যার মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় অঙ্কের বিক্রিও ছিল। একই সময়ে ডলারের দর কমে এবং সোনার দাম বেড়ে যায়। এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবে অন্যান্য অনেক মুদ্রার তুলনায় বাথ আরও শক্তিশালী হয়েছে। ওঠানামা কমাতে নীতিনির্ধারকেরা এখন এই অর্থপ্রবাহের কার্যপদ্ধতিতে নজর দিচ্ছেন।
থাইল্যান্ডে সোনার বাণিজ্য যেভাবে মুদ্রার দরকে প্রভাবিত করে
বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়লে থাই পরিবার ও বিনিয়োগকারীরা মুনাফা নিশ্চিত করতে প্রায়ই সোনা বিক্রি করেন। সোনার দোকানগুলো সেই সোনা কিনে মজুতের ভারসাম্য ফেরাতে সাধারণত বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে। তারা ডলারে মূল্য পায়, পরে স্থানীয় বিক্রেতাদের অর্থ দিতে সেই ডলার বাথে রূপান্তর করে। এতে ডলার বিক্রি ও বাথ কেনার ঢেউ তৈরি হয়, যা দ্রুত বাথের দর বাড়াতে পারে। দাম কমলে প্রক্রিয়াটি উল্টে যেতে পারে এবং বাথের দরও কমতে পারে। কর্তৃপক্ষ এই চক্রের ওঠানামা মসৃণ করতে চায়, কারণ এর ফলে এক সপ্তাহ থেকে আরেক সপ্তাহে মুদ্রার দর এমনভাবে দুলতে পারে, যা সামাল দেওয়া ব্যবসার জন্য কঠিন।
বিবেচনাধীন নীতিগত পদক্ষেপ
বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে শিল্প খাতের সঙ্গে কাজ করছেন কর্মকর্তারা। একটি উদ্যোগে বাথে নয়, মার্কিন ডলারে সোনার লেনদেন উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে বড় অঙ্কের অর্থ বারবার রূপান্তর কমানো যায়। বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উন্নত মানের প্রতিবেদন পেলে প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেনের ধরন অনুসরণ করাও সহজ হবে। মুদ্রার দর অতিরিক্ত বেড়ে গেলে সোনার উন্মত্ত বাণিজ্য ঠেকাতে সম্ভাব্য কর আরোপের কথা কিছু নীতিনির্ধারক আলোচনা করেছেন। তবে এ ধরনের করের তারল্যের ওপর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সতর্ক পর্যালোচনা প্রয়োজন। আপাতত অগ্রাধিকার হলো স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং বিশ্ববাজারে সোনার দামের উল্লম্ফনের সঙ্গে বাথের দ্রুত ওঠানামার ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র কমানো।
বিদেশে রাখা আয়ের সীমা বাড়ানো
প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত বিধি নির্ধারণ করে, কোম্পানিগুলোকে কতটা বৈদেশিক মুদ্রা বাথে রূপান্তর করতে হবে। পরিকল্পিত পরিবর্তন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে রাখতে পারবে, দেশে না এনেই। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছে পণ্য রপ্তানি করা কোনো প্রতিষ্ঠান ডলারে আয় ধরে রাখতে এবং বাথে রূপান্তর না করেই বিদেশি সরবরাহকারীদের অর্থ দিতে, পরিবহন বিল মেটাতে বা বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ পরিশোধ করতে পারবে। রূপান্তর কম হলে বাথের দর বেশি শক্তিশালী থাকার দিনগুলোতে এর স্বয়ংক্রিয় চাহিদাও কমবে, যা দরবৃদ্ধির গতি সামলাতে সহায়তা করতে পারে।
কিছু খাতের জন্য এই নমনীয়তা হেজিংয়ের ব্যয়ও কমাতে পারে। ডলারে বড় অঙ্কের আয় ও ব্যয় আছে এমন কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেগুলোর মধ্যে আরও দক্ষভাবে সমন্বয় করতে পারবে, ফলে প্রতিটি নগদ লেনদেনের জন্য হেজিং উপকরণ কেনার প্রয়োজন কমবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য, বাণিজ্য বন্ধ করা নয়; বরং বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ওঠানামার সময় মুদ্রার দরদোল বাড়িয়ে দেয় এমন অর্থের ঘন ঘন রূপান্তর সীমিত করা।
সুদের হার ও নাজুক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ভিতাই রাতানাকর্ন বলেছেন, সুদের হার কমানোর সুযোগ রয়েছে। তবে গভীরভাবে প্রোথিত প্রবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জে শুধু সুদের হার পরিবর্তনের প্রভাব সীমিত বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। গত এক বছরে চার দফা কমানোর পর নীতিসুদ এখন ১.৫০ শতাংশ। পরবর্তী পর্যালোচনা ১৭ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। মূল্যস্ফীতি কম এবং লক্ষ্যমাত্রার নিচে থাকায় সহায়ক নীতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মুদ্রানীতি শিথিল করলে সহায়তা মিলতে পারে, তবে কর্মকর্তারা বলছেন, সোনার লেনদেনজনিত বিনিময় হারের অস্থিরতার মতো বাজারের প্রতিবন্ধকতা লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নিলে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সরাসরি স্বস্তি পেতে পারে।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো ২০২৫ সালে ধীরগতির পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও পর্যটনের চলমান পুনরুদ্ধারের সহায়তায় প্রবৃদ্ধি ২০২৪ সালের ২.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ২.৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে পর্যটকের সংখ্যা মহামারির আগের পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.৮ শতাংশ থাকতে পারে, যা এখনো কম। ডিজিটাল ওয়ালেটে অর্থ স্থানান্তরসহ রাজস্ব নীতির উদ্যোগ ভোগব্যয়কে সমর্থন করেছে। পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি ঋণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ভারসাম্য রাখছেন নীতিনির্ধারকেরা। এই পরিস্থিতিতে বিনিময় হারের আকস্মিক ওঠানামা থেকে প্রকৃত অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়ার বাস্তবসম্মত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে মুদ্রানীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ।
শক্তিশালী বাথ যেভাবে রপ্তানি ও পর্যটনকে প্রভাবিত করে
রপ্তানিকারকদের জন্য শক্তিশালী বাথের অর্থ, বিদেশি ক্রেতারা একই পরিমাণ ডলারে কম পণ্য কিনতে পারেন। এতে মুনাফার হার কমে যেতে পারে, অথবা দাম কমাতে হতে পারে। ইলেকট্রনিকস, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও কৃষিপণ্যের মতো খাতে এমন আঞ্চলিক প্রতিযোগী রয়েছে, যাদের মুদ্রার দর হয়তো ততটা শক্তিশালী নয়। বাজারের ওঠানামার সময় বুঝে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা না করে ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি হেজ করতে কোম্পানিগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মুদ্রার দর দ্রুত বদলালে নিয়মিত হেজিং নগদ প্রবাহ স্থিতিশীল রাখতে পারে।
পর্যটন খাতও এই পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করে। বাথের দর শক্তিশালী হলে পর্যটকদের জন্য হোটেল, খাবারদাবার ও কেনাকাটা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এতে তাদের ব্যয় কমতে পারে, অথবা দামের ব্যাপারে সংবেদনশীল পর্যটকেরা অন্য গন্তব্য বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে, আমদানিনির্ভর ব্যবসাগুলো লাভবান হয়, কারণ বিদেশি উপকরণের দাম কমে যায়। আমদানি করা জ্বালানি ও পণ্যের দাম বাথে কম পড়ায় পরিবারগুলোও কিছুটা স্বস্তি পায়। বাথ শক্তিশালী হলে ডলারে ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের সুদ ও আসলের কিস্তিও কমতে পারে, যদিও মুদ্রার দর দুর্বল হলে সুবিধাটি উল্টে যেতে পারে। নীতিনির্ধারকদের চ্যালেঞ্জ হলো, দরবদল যেন ধীরে হয়, যাতে লাভবান ও ক্ষতিগ্রস্ত উভয় পক্ষই মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়।
জল্পনামূলক লেনদেন নিয়ে আগের বিধিতে যা বলা আছে
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কহীন নিছক মুদ্রা জল্পনা ঠেকাতে থাইল্যান্ডে আগে থেকেই বিস্তৃত নীতিকাঠামো রয়েছে। অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম না থাকলে অনাবাসী গ্রাহকদের কাছে অনশোর ব্যাংকগুলো কত বাথ সরবরাহ করতে পারবে, তা সীমিত করে ব্যাংক অব থাইল্যান্ড। অন্তর্নিহিত লেনদেন ছাড়া অনাবাসীদের বাথে ঋণ নেওয়াও সীমিত করে তারা এবং অনাবাসীদের বিশেষ বাথ হিসাবের দিনশেষের স্থিতির ওপর সীমা আরোপ করে। অনশোর ব্যাংকগুলো অনাবাসীদের সঙ্গে বাথের বিপরীতে নিষ্পত্তিবিহীন ফরোয়ার্ড লেনদেন করতে পারে না। বৈদেশিক পক্ষগুলোর বড় অঙ্কের একমুখী বাজি ধরার সক্ষমতা কমিয়ে মুদ্রার অস্থিতিশীলতা ঠেকাতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এসব বিধির বিস্তারিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশ্য উপকরণে রয়েছে, যার মধ্যে আছে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা। এখন প্রস্তুত করা নতুন পদক্ষেপগুলো প্রচলিত জল্পনাবিরোধী ব্যবস্থার চেয়ে আলাদা। এগুলোর লক্ষ্য থাইল্যান্ডের ভেতরের দৈনন্দিন কার্যক্রম, যা মুদ্রার দরদোল বাড়াতে পারে, বিশেষ করে সোনার লেনদেনের ক্ষেত্রে। প্রতিবেদনব্যবস্থা উন্নত করা, ব্যাংকের যাচাই কঠোর করা এবং বিদেশে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার আরও সুযোগ দিয়ে ব্যবসাগুলোকে নমনীয়তা দেওয়ার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ বাজারের কার্যক্রম সচল রাখতে চায়; একই সঙ্গে এমন আকস্মিক দরবদল এড়াতে চায়, যা পরিকল্পনা ও বিনিয়োগে ব্যাঘাত ঘটায়।
বিনিয়োগকারী ও ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
ব্যাংকগুলো কত দ্রুত তাদের প্রক্রিয়া বদলায় এবং সোনার ব্যবসায়ীরা প্রতিবেদন দেওয়ার নিয়ম কতটা মেনে চলেন, তার ওপর নির্ভর করবে এসব ব্যবস্থার প্রভাব কত দ্রুত পড়বে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের হেজিং নীতি ও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার রুটিন পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ডলারে পাওনা এবং বিদেশে ব্যয় আছে এমন রপ্তানিকারকেরা প্রত্যাবাসন না করার উচ্চতর সীমা থেকে লাভবান হতে পারেন। তবে যেসব কোম্পানির ব্যয় মূলত বাথে, তারা আগের মতোই মুদ্রা রূপান্তরের সময়সূচি অনুসরণ করতে পারে। পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি নিয়ে প্রত্যাশা এবং বিশ্ববাজারে সোনার পরিস্থিতি বাথের দরকে আরও শক্তিশালী করবে কি না। বিশ্ববাজারের শক্তিগুলো অনুকূলে থাকলে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপগুলো দরবৃদ্ধির গতি কমাতে এবং আকস্মিক বিপরীতমুখী পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করতে পারে।
মূল বিষয়গুলো
- এ বছর মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাথের দর প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে প্রায় ৩১.৭ বাথে পৌঁছেছে; এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রাগুলোর একটি এটি।
- সোনা-সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে ব্যাংকের যাচাই কঠোর করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বড় সোনার ব্যবসায়ীদের কাছে লেনদেনের তথ্য চাইবে।
- বিদেশে অর্জিত যে আয় দেশে ফিরিয়ে আনতে হয় না, তার সীমা প্রতি লেনদেনে ১ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের।
- বাথের দরবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা বারবার মুদ্রা রূপান্তর কমাতে ডলারে সোনার লেনদেন উৎসাহিত করার উপায় খতিয়ে দেখছেন কর্মকর্তারা।
- সোনার লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত কর আরোপের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তবে সিদ্ধান্তের আগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সতর্কভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
- গত এক বছরে চার দফা কমানোর পর নীতিসুদ এখন ১.৫০ শতাংশ; পরবর্তী পর্যালোচনা ১৭ ডিসেম্বর।
- ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, আর মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার নিচে থাকায় সহায়ক নীতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
- বিদ্যমান জল্পনাবিরোধী বিধিতে অনাবাসীদের জন্য বাথের সরবরাহ ও ঋণ সীমিত করা হয়েছে এবং অনাবাসীদের সঙ্গে নিষ্পত্তিবিহীন ফরোয়ার্ড লেনদেন নিষিদ্ধ।






