ওয়াশিংটন ও লন্ডনের সতর্কবার্তা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাইবার প্রতারণা শিল্পের বিরুদ্ধে সমন্বিত সবচেয়ে বড় অভিযানগুলোর একটি রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অপরাধলব্ধ মুনাফার যোগসূত্রকে কঠোরভাবে সামনে এনেছে। যৌথ পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কম্বোডিয়ার প্রিন্স গ্রুপকেন্দ্রিক একটি নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করেছে। গোষ্ঠীটির চেয়ারম্যান চেন ঝি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ১৪৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কৌঁসুলিরা অনলাইন জালিয়াতি, মানবপাচার ও অর্থপাচারের বিবরণসহ অভিযোগপত্র প্রকাশ করেছেন, আর তদন্তকারীরা প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১ লাখ ২৭ হাজার বিটকয়েন জব্দ করেছেন। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কথিত এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লন্ডনের উচ্চমূল্যের সম্পত্তিও জব্দ করেছে। ডিজিটাল চুরিকে বাস্তব সম্পদে রূপান্তরকারী আর্থিক মেরুদণ্ডে আঘাত হানাই ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য।
সূচিপত্র
- ওয়াশিংটন ও লন্ডনের সতর্কবার্তা
- এই শিল্পের শিকড় কীভাবে গেড়েছে
- নতুন অর্থপ্রবাহকে শোষণ করে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি
- ২০১০ সালের পর চীনা ধূসর পুঁজি
- ক্রিপ্টো ও ডিজিটাল পেমেন্টে দ্রুত হয়েছে অর্থপাচার
- কেন্দ্রে কম্বোডিয়া
- মিয়ানমারের সীমান্ত শহর ও মিলিশিয়াদের অর্থায়ন
- নিয়ন্ত্রিত অভিযান, স্থান বদলানো কেন্দ্র
- লাওসের বিশেষ অঞ্চল ও বেছে বেছে আইন প্রয়োগ
- টেকসই আইন প্রয়োগের পরীক্ষা ফিলিপাইনে
- প্রতারণার ভেতরের কৌশল ও অর্থের চলাচল
- কারা ক্ষতিগ্রস্ত, রাষ্ট্রগুলো কীভাবে সাড়া দেয়
- আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জোরদার, ঘাটতি রয়ে গেছে
- কীভাবে এই শিল্পের লাগাম টানা যায়
- সারকথা
ক্ষতির পরিমাণ বিপুল এবং তা বাড়ছেই। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সালে মার্কিনরা ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতারণার শিকার হয়েছেন; এর মধ্যে বিনিয়োগ ও প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলার প্রতারণা থেকেই ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিশ্বজুড়ে মোট প্রতারণালব্ধ অর্থের পরিমাণ বছরে কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছায়। গত এক দশকে গড়ে ওঠা অনলাইন জালিয়াতির আঞ্চলিক বাজারেরই প্রতিফলন এই হিসাব। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি কল সেন্টার হিসেবে যার শুরু, তা এখন এমন এক আন্তঃদেশীয় শিল্পে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যায় লোক নিয়োগ করা হয়, জটিল অর্থপ্রবাহের মাধ্যমে টাকা পাচার হয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুরক্ষা মেলে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপের পরের কয়েক সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন সরকার দৃঢ় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। অভিযান চালানো হয়েছে, কম্পাউন্ড পরিদর্শন করা হয়েছে এবং কর্মকর্তারা পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু সমস্যাটি রাজনীতি ও অর্থের গভীরে প্রোথিত। প্রতারণার কার্যক্রম স্থানীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক অভিজাত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। এতে কয়েক হাজার কর্মী কাজ করেন, যাদের অনেকে পাচারের শিকার; আর এ থেকে আসে এমন বৈদেশিক মুদ্রা, যা পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থা সচল রাখে। এসব কার্যক্রম বন্ধ করতে গেলে অভিজাতদের শাসন ও অর্থের প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়ক ব্যবস্থাগুলোকেই চ্যালেঞ্জ করতে হয়।
এই শিল্পের শিকড় কীভাবে গেড়েছে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার প্রতারণার উত্থানের পেছনে সময়ের সঙ্গে মিলিত হয়েছে তিনটি শক্তি। দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি নতুন অর্থপ্রবাহকে নিজেদের মধ্যে টেনে নিতে পারে। ২০১০ সালের পর চীনা ধূসর পুঁজির ঢল ক্যাসিনো, আবাসন ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের উপযোগী ক্ষেত্র খুঁজে পায়। ডিজিটাল পেমেন্ট ও ক্রিপ্টোকারেন্সির দ্রুত প্রসার সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অর্থ সরানো সহজ করে। প্রতিটি শক্তিই আলাদাভাবে আগে থেকেই ছিল; কিন্তু একসঙ্গে এগুলো ছোটখাটো প্রতারণাকে বৈশ্বিক জালিয়াতি যন্ত্রে পরিণত করে।
নতুন অর্থপ্রবাহকে শোষণ করে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি
এই অঞ্চলের বড় অংশে ক্ষমতার ভিত্তি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নয়; বরং ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ। তহবিল সংগ্রহ, আনুগত্য নিশ্চিত ও বিরোধ মেটাতে রাজনীতিকেরা ব্যবসায়িক মিত্র, সামরিক মধ্যস্থতাকারী এবং স্থানীয় যোগাযোগকারীদের ওপর নির্ভর করেন। ঔপনিবেশিক শাসন থেকে শীতল যুদ্ধের সংঘাত এবং সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠন—রাষ্ট্র গড়ে ওঠার ধারার মধ্য দিয়েই এসব নেটওয়ার্কের বিকাশ হয়েছে। বৈধ বা অবৈধ—নতুন আয়ের উৎস দেখা দিলে সেগুলো এই ব্যবস্থার মধ্যে টেনে নেওয়া হয়। অনলাইন জালিয়াতি নতুন রাজনীতির জন্ম দেয়নি; এটি বিদ্যমান খাজনা আদায় ও সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।
২০১০ সালের পর চীনা ধূসর পুঁজি
চীনের ভেতরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও কঠোর পুঁজি নিয়ন্ত্রণের কারণে নিবন্ধনহীন অর্থ বিদেশে চলে যায়। ২০১২ সালের পর বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থ রাখার তুলনামূলক নিরাপদ স্থান খুঁজতে থাকেন। অনলাইন জুয়া এবং সীমান্তপারের অর্থ স্থানান্তরের বিরুদ্ধে অভিযান সেই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করে। কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও ফিলিপাইন অর্থ দিতে সক্ষম ব্যক্তিদের জমি, লাইসেন্স ও নিরাপত্তা দিয়েছে। ক্যাসিনো, শিল্পাঞ্চল ও আবাসন প্রকল্প অর্থপ্রবাহের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। উন্নয়নকারীরা প্রভাবশালী অভিজাতদের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে, যারা সুরক্ষা ও সরকারি আড়াল জুগিয়েছে। মহামারির সময় পর্যটন ভেঙে পড়লে এসব স্থানের অনেকগুলোকে প্রতারণার কম্পাউন্ডে রূপান্তর করা হয়। প্রতারণামূলক চাকরির প্রস্তাব দিয়ে নিয়োগ করা পাচারের শিকার শ্রমিকদের দিয়ে আগের কর্মীদের বদলি করা হয়।
ক্রিপ্টো ও ডিজিটাল পেমেন্টে দ্রুত হয়েছে অর্থপাচার
দ্রুত ও অস্বচ্ছ অর্থ স্থানান্তরের ওপর এই শিল্প নির্ভরশীল। চুরি করা অর্থ একাধিক মধ্যস্থতাকারী অ্যাকাউন্ট ঘুরে ভার্চুয়াল মুদ্রায় রূপান্তরিত হয়, বিভিন্ন ওয়ালেটে সরানো হয়, অন্য অর্থের সঙ্গে মেশানো হয় এবং পরে ব্যাংকে ফেরত ঢোকানো হয় বা সম্পত্তি কেনায় ব্যবহার করা হয়। ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্রোকার ও শিথিল নিয়ন্ত্রণের এক্সচেঞ্জ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৈধ বাণিজ্যে ব্যবহৃত একই মোবাইল অ্যাপ কয়েক সেকেন্ডে অর্থ সরানো সহজ করে। পুরোনো দুর্নীতির ধরনকে সরিয়ে না দিয়ে এসব উপকরণ বরং সেগুলোর পরিসর বাড়িয়েছে; খাজনা আদায়ের নেটওয়ার্ককে বৈশ্বিক অর্থ ও প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করেছে।
কেন্দ্রে কম্বোডিয়া
এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে কম্বোডিয়া। কয়েক দশক ধরে ক্ষমতাসীন কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টি রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে বেসরকারি ব্যবসাকে একীভূত করেছে। প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা একচেটিয়া চুক্তি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা পেয়েছেন, আর রাজনৈতিক যোগাযোগসম্পন্ন পরিবারগুলো নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। ২০১৯ সালে অনলাইন জুয়ার ওপর দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ক্যাসিনো ও হোটেল প্রকল্পের অবকাঠামো বিলীন হয়নি, বরং অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। জুয়ার জন্য তৈরি কম্পাউন্ডগুলো অনলাইন জালিয়াতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে, প্রায়ই ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে; এরপর বিশ্বজুড়ে মানুষকে প্রতারণা করতে তাদের বাধ্য করা হয়েছে।
প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুরক্ষা ছাড়া এসব কার্যক্রমের বিস্তার সম্ভব হতো না। প্রতারণাচক্রের প্রধানদের ব্যবহৃত সম্পত্তি প্রায়ই রাজনৈতিক যোগাযোগসম্পন্ন ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণাধীন জমিতে অবস্থিত। বিদেশি পরিচালকেরা নাগরিকত্ব ও সম্মাননা পেয়েছেন। তদন্ত থমকে গেছে বা নীরবে বন্ধ হয়েছে। প্রিন্স গ্রুপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মামলাটি দেখায়, কথিত অপরাধী উদ্যোগ কীভাবে উচ্চ অর্থায়ন, রাজনীতি ও অভিজাত নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর প্রিন্স ব্যাংকে গ্রাহকদের টাকা তোলার চাপ তৈরি হলে সরকারকে জরুরি আশ্বাস দিতে হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। থাই কর্তৃপক্ষও নম পেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে, যা পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
সরকারি প্রতিক্রিয়া মিশ্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৪ সালের মানবপাচারবিষয়ক প্রতিবেদনে কম্বোডিয়াকে তৃতীয় স্তরেই রাখা হয় এবং ব্যাপক দুর্নীতি ও অনলাইন প্রতারণা কার্যক্রমে যোগসাজশের কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কর্তৃপক্ষ প্রায়ই ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে, পাচারের শিকার কর্মীদের বাধ্য হয়ে করা অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়েছে এবং যোগসাজশকারী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনেনি। ২০২৫ সালের একটি বড় মানবাধিকার তদন্তে কম্বোডিয়াজুড়ে প্রতারণার কম্পাউন্ডের সন্ধান পাওয়া যায়; বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা মারধর, জোরপূর্বক শ্রম এবং এমনকি নির্যাতনকক্ষের কথা জানান। অভিযানে প্রায়ই নামমাত্র পদক্ষেপ দেখা গেছে: কয়েকজন কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে, অথচ ব্যবসা চলেছে আগের মতোই। নির্যাতনের তথ্য নথিবদ্ধ করা সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা প্রতিশোধের মুখে পড়েছেন।
অর্থপাচার নিয়ে প্রশ্ন আরও বিস্তৃত হয়েছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতারণালব্ধ অর্থের বড় প্রবাহ শনাক্ত করেছে। প্রভাবশালী পরিবারের সঙ্গে কথিত যোগসূত্র থাকা একটি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মকে ২০২৪ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই পদক্ষেপ অবৈধ অর্থ সরানোর আর্থিক পথগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সদিচ্ছার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আর সেগুলোকে সক্ষম করে তোলা রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্যে ব্যবধানও স্পষ্ট করে।
মিয়ানমারের সীমান্ত শহর ও মিলিশিয়াদের অর্থায়ন
সীমান্তবর্তী এলাকায় কর্তৃত্বের খণ্ডিত কাঠামোর মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে প্রতারণার কেন্দ্রগুলো গড়ে উঠেছে। জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সামরিকপন্থী মিলিশিয়ারা দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব প্রশাসন চালিয়েছে, কর আদায় করেছে, অনুমতিপত্র দিয়েছে এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেছে। অস্ত্র ও নতুন সদস্য সংগ্রহের অর্থ জোগাতে মাদক, কাঠ পাচারসহ অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি প্রতারণার কার্যক্রমও আয়ের উৎস হয়েছে। দুটি স্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: কারেন রাজ্যের শুয়ে কোক্কো, যা ইয়াতাই নিউ সিটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত, এবং থাই সীমান্তের কাছে কে কে পার্ক। বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাসহ প্রাচীরঘেরা এলাকা গড়ে তুলেছেন। বিশ্বজুড়ে ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে প্রতারণা চালাতে হাজার হাজার পাচারের শিকার কর্মীকে সেখানে আনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দমন ও এড়িয়ে যাওয়ার এই মিশ্র চিত্র স্পষ্ট। শুয়ে কোক্কোতে বড় একটি কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনা কর্তৃপক্ষের অভিযুক্ত শে ঝিজিয়াংকে ২০২২ সালে ব্যাংককে গ্রেপ্তারের পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে চীনে প্রত্যর্পণ করা হয়। আলোচিত কয়েকটি ঘটনার পর চাপ ও পর্যটন খাত নিয়ে উদ্বেগের মুখে থাই কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু কম্পাউন্ডের পরিষেবা বন্ধ করেছে, জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের সরিয়েছে এবং প্রত্যাবাসন ফ্লাইটের সমন্বয় করেছে। মিয়ানমারের জান্তা কয়েকটি স্থাপনা বন্ধ করার দাবি করেছে, কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য বিবরণ থেকে বোঝা যায়, অনেক অভিযানই নিয়ন্ত্রিত। বসদের আগাম সতর্ক করা হয় এবং তারা কার্যক্রম সরিয়ে নেন। বিপুলসংখ্যক কর্মী পালালেও মূল নেটওয়ার্ক কয়েক মাইল দূরে সরে গিয়ে আবার গড়ে ওঠে।
নিয়ন্ত্রিত অভিযান, স্থান বদলানো কেন্দ্র
সীমান্ত অর্থনীতিতে সুরক্ষা দিতে সক্ষম পক্ষগুলো লাভবান হয়, আর যারা তা পারে না তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি কম্পাউন্ড অতিরিক্ত নজরে এলে আরেকটি চালু হয়। স্থানীয় মিলিশিয়া, সীমান্তরক্ষী ও মধ্যস্থতাকারীরা প্রতিটি ধাপে খাজনা আদায় করে। এর ফলে এমন এক টেকসই ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপের চেয়ে দ্রুত অভিযোজিত হয়।
লাওসের বিশেষ অঞ্চল ও বেছে বেছে আইন প্রয়োগ
একদলীয় শাসন, দুর্বল দেশীয় শিল্প এবং বিপুল ঋণে জর্জরিত লাওস এমন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে, যা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে সুসংহত করে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আনে। এই পরিবেশে বিশেষ অঞ্চল গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব বিনিয়োগকারীদের হাতে অর্পণ করা হয়। বোকেও প্রদেশে চীনা ব্যবসায়ী ঝাও ওয়ের পরিচালিত গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি নিজস্ব ক্যাসিনো, নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিসহ একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন এলাকায় পরিণত হয়েছে। অতীতে মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এই অঞ্চলের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবু স্থানীয় স্বীকৃতি অব্যাহত ছিল; ২০২৪ সালে রাষ্ট্রীয় পদক দেওয়াকে সমর্থনেরই ইঙ্গিত বলে মনে হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ অনলাইন প্রতারণার কারখানা ভেঙে ফেলার সময়সীমা ঘোষণা করেছে এবং মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়েছে। অধিকাংশ পদক্ষেপে নিম্নপর্যায়ের কর্মীদের ব্যাহত করা হয়েছে, কিন্তু মালিকানা ও মূল নেটওয়ার্ক অক্ষত থেকেছে। সংক্ষিপ্ত বিরতির পর নতুন কার্যক্রম শুরুর খবর আবার এসেছে। এই ধরনটি অঞ্চলের অন্য অংশগুলোর সঙ্গেও মেলে: প্রান্তে শক্তি প্রদর্শন, কেন্দ্রে ধারাবাহিকতা।
টেকসই আইন প্রয়োগের পরীক্ষা ফিলিপাইনে
ফিলিপাইন ভিন্ন পথ নিয়েছে। পোগো নামে পরিচিত বিদেশভিত্তিক জুয়ার উত্থান সাইবার প্রতারণার সুযোগ তৈরি করে; স্থানীয় রাজনীতিকেরা অনুমতিপত্র দিয়ে ও তদন্ত নিরুৎসাহিত করে এসব কার্যক্রমকে সুরক্ষা দিয়েছেন। ২০২৩ সাল থেকে আলোচিত অভিযানে পাচারের শিকার কর্মীদের সন্ধান মেলে এবং কর্মকর্তাদের কথিত যোগসাজশ প্রকাশ পায়। তারলাক প্রদেশে তদন্তকারীরা একটি বড় কম্পাউন্ডকে পৌর নেতৃত্বের একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে অভিযোগ দায়ের করেন। ২০২৪ সালে জাতীয় কর্তৃপক্ষ পোগো নিষিদ্ধ করে, এরপর ২০২৫ সালে আইনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। পুলিশ ও অভিবাসন কর্মকর্তারা বারবার অভিযান চালিয়েছেন, স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিচার করেছেন এবং হাজার হাজার কর্মীকে প্রত্যর্পণ করেছেন।
এই অভিযান শিল্পটিকে মুছে দেয়নি। পরিচালকেরা নতুন নাম নিয়েছেন, আড়ালে চলে গেছেন বা নতুন স্থানে সরে গেছেন; কখনো একই কর্মী ও ভবন ব্যবহার করেই। তবু ধারাবাহিক আইন প্রয়োগে রাজনৈতিক সুরক্ষার খরচ বেড়েছে এবং উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতা দেখায়, অপরাধভিত্তিক অর্থনীতিকে রাতারাতি নির্মূল করা না গেলেও ধারাবাহিক পুলিশি তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপে তা সীমিত করা সম্ভব।
প্রতারণার ভেতরের কৌশল ও অর্থের চলাচল
প্রতারণার ধরন নানা রকম হলেও কৌশল প্রায় একই। মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুদের আস্থা অর্জনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কর্মীদের। তারা ব্যাংকের কর্মী, বিনিয়োগ পরামর্শক বা প্রেমের সঙ্গীর পরিচয় দেয়। সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রতারণার একটি ‘পিগ বুচারিং’ নামে পরিচিত। প্রতারক আবেগগত সম্পর্ক গড়তে সময় নেয়, ভুয়া প্ল্যাটফর্মে নকল মুনাফা দেখায়, এরপর ভুক্তভোগীকে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগে চাপ দেয়। টাকা জমা হলে প্ল্যাটফর্মটি টাকা তোলা বন্ধ করে দেয় বা উধাও হয়ে যায়। এর নানা রূপের মধ্যে রয়েছে ক্রিপ্টো বিনিয়োগের নামে প্রতারণা, সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ধারণ এবং যৌন বিষয়বস্তু নিয়ে ব্ল্যাকমেইল।
অর্থপাচারই এই যন্ত্র সচল রাখার চালিকাশক্তি। একাধিক দেশের অ্যাকাউন্টে ঘুরে বেড়ায় অর্থ; প্রায়ই এসব অ্যাকাউন্ট নিয়োগ করা ব্যক্তিদের নামে খোলা হয়, যারা অর্থবাহক হিসেবে কাজ করার বিনিময়ে সামান্য অংশ পান। ক্রিপ্টো ওয়ালেট ও মিক্সার অর্থের উৎস আড়াল করার আরও স্তর তৈরি করে। ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্যবসায়ীরা টোকেনকে নগদে রূপান্তর করেন। সেই অর্থে আবাসন, গাড়ি ও বিলাসপণ্য কেনা হয়, অথবা বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্রগুলোর সম্পত্তি বাজারে প্রবাহিত হয়। প্রতিটি রূপান্তরের ধাপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য সন্দেহজনক ধরন শনাক্ত করার সুযোগ থাকে; তবে এর জন্য দ্রুত আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা এবং প্ল্যাটফর্ম ও এক্সচেঞ্জের হাতে থাকা তথ্যের নাগাল প্রয়োজন।
কারা ক্ষতিগ্রস্ত, রাষ্ট্রগুলো কীভাবে সাড়া দেয়
এই প্রতারণার দুই প্রান্তেই ভুক্তভোগী আছেন। বিশ্বজুড়ে মানুষ জীবনের সঞ্চয়, বাড়ি ও অবসরকালীন তহবিল হারান। পাচারের শিকার কর্মীরা হারান স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা। কম্বোডিয়ার কম্পাউন্ড থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বর্ণনায় কারাগারের মতো পরিবেশ, মারধর এবং দৈনিক কোটা পূরণে জোরপূর্বক শ্রমের কথা উঠে এসেছে। কোনো কোনো স্থানে নির্যাতনের জন্য আলাদা কক্ষ ছিল বলে জানা গেছে, আর কম্পাউন্ডের ভেতরে মৃত্যুর ঘটনাও নথিবদ্ধ হয়েছে। উদ্ধারের ঘটনায় প্রায়ই অল্পসংখ্যক মানুষ মুক্তি পেয়েছেন; অন্যদের নতুন স্থানে সরানো হয়েছে বা আবার পাচার করা হয়েছে।
সরকারি প্রতিবেদনে দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতির কথা উঠে এসেছে। দুর্নীতি ও যোগসাজশ, দুর্বল যাচাই এবং বিচার না করার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৪ সালে মানবপাচার প্রতিরোধে কম্বোডিয়াকে সর্বনিম্ন স্তরে রেখেছে। অনুসন্ধানের ফল তুলে ধরার পর প্রতিবেদনে এক বাক্যে সরকারি মূল্যায়ন সংক্ষেপ করা হয়।
প্রতিবেদনের সরাসরি উদ্ধৃতি দেওয়ার আগে প্রেক্ষাপটটি উল্লেখ করা জরুরি: তৃতীয় স্তর বলতে বোঝায়, কোনো সরকার ন্যূনতম মান পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে এবং তা করার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে না। ভাষাটি স্পষ্ট, এতে দ্ব্যর্থতার সুযোগ নেই।
মানবপাচার নির্মূলে কম্বোডিয়া সরকার ন্যূনতম মান পুরোপুরি পূরণ করছে না এবং তা করার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে না।
মানবাধিকার গবেষকেরা বলছেন, এই ধরন ধারাবাহিকভাবে দেখা যায়। কম্বোডিয়ার কয়েক ডজন কম্পাউন্ডে তদন্ত চালিয়ে বারবার নির্যাতন, ভুক্তভোগীদের জন্য অতি সীমিত সুরক্ষা এবং দায়ীদের জবাবদিহির অভাব পাওয়া গেছে। নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ করায় সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা চাপের মুখে পড়েছেন। অনলাইন জালিয়াতি, মানবপাচার ও জোরপূর্বক শ্রম পর্যবেক্ষণকারী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নথিবদ্ধ বৃহত্তর চিত্রের সঙ্গেও এসব অনুসন্ধান মিলে যায়।
আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জোরদার, ঘাটতি রয়ে গেছে
আইন প্রয়োগে সহযোগিতা বেড়েছে। মার্কিনদের বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করছে—এমন গুরুতর প্রতারণার তদন্ত, তা ব্যাহত ও বিচার করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্ক্যাম সেন্টার স্ট্রাইক ফোর্স গঠন করে। কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা বেড়েছে। চীন নিজ দেশের নাগরিকদের উদ্ধার করেছে এবং প্রত্যর্পণের উদ্যোগ নিয়েছে; এর মধ্যে থাইল্যান্ড থেকে শে ঝিজিয়াংকে হস্তান্তরও রয়েছে। অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে থাইল্যান্ড কয়েকটি সীমান্তবর্তী কম্পাউন্ডের বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং নির্দিষ্ট কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে।
নীতিগত অসংগতি রয়েই গেছে। ব্যক্তিবিশেষের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করলে উপসর্গের মোকাবিলা হয়, কিন্তু সহায়ক ব্যবস্থাগুলো অক্ষত থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, সুরক্ষা দেন বা প্রতারণা থেকে মুনাফা করেন—এমন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ এড়ালে সমস্যাটিকে শুধু অপরাধের বিষয় হিসেবে দেখানো হয়; অথচ এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সরকার এমন ব্যক্তিদের আতিথ্য দিয়েছে বা সহযোগিতা করেছে, যাদের নেটওয়ার্ক পরে নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে; এতে বার্তা অস্পষ্ট হয়েছে। এদিকে বিদেশি রাজধানীগুলোতে প্রচার অভিযান ও তদবিরের কারণে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের সঙ্গে নীতির সমন্বয় আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরের আর্থিক কেন্দ্রগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার কিছু অংশের ব্যাংক, আবাসন বাজার এবং ক্রিপ্টো সেবাদাতারা অবৈধ অর্থ গ্রহণ করে। প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, উচ্চঝুঁকির লেনদেনে কঠোরতর যাচাই এবং দ্রুত তথ্য বিনিময় ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইন প্রয়োগ সমস্যাটিকে কমানোর বদলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঠেলে দেবে।
কীভাবে এই শিল্পের লাগাম টানা যায়
অঞ্চলজুড়ে অভিজ্ঞতা থেকে এমন কিছু পদক্ষেপের ইঙ্গিত মেলে, যেগুলো একসঙ্গে নিলে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জোরপূর্বক প্রতারণার অর্থকে বৈধ অর্থে রূপান্তরের শৃঙ্খলের আলাদা আলাদা যোগসূত্রকে লক্ষ্য করে প্রতিটি পদক্ষেপ।
প্রথমত, পরিচালকদের পাশাপাশি সহায়তাকারীদেরও নিষেধাজ্ঞা ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। এর অর্থ, প্রতারণাকেন্দ্রকে লাইসেন্স দেন, সুরক্ষা দেন বা সেখান থেকে মুনাফা করেন—এমন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এবং তাদের অর্থ সামলানো আইনজীবী, ব্রোকার ও ভুয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা গড়ে তোলা। দুর্নীতি ও যোগসাজশের জন্য এমন বাস্তব মূল্য দিতে হবে, যা সুরক্ষা দেওয়ার লাভের চেয়ে বেশি।
দ্বিতীয়ত, অর্থ স্থানান্তরের পথগুলোতে আঘাত হানতে হবে। ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ, ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্রোকার ও উচ্চঝুঁকির পেমেন্ট প্রসেসরের জন্য নিয়ন্ত্রকদের মানদণ্ড বাড়ানো উচিত। গ্রাহককে জানুনসংক্রান্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ বাধ্যতামূলক করতে হবে, মিক্সার পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং সম্পদের উৎস শনাক্তে সহায়ক নথি সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। নিয়ম মানতে অস্বীকার করা উচ্চঝুঁকির প্ল্যাটফর্মকে ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
তৃতীয়ত, সম্পত্তি বাজার পরিচ্ছন্ন করতে হবে। প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানার স্বচ্ছতা কার্যকর করতে হবে, উচ্চঝুঁকির খাতে বেনামি ক্রয় সীমিত করতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রেতাদের ক্ষেত্রে বাড়তি যাচাই বাধ্যতামূলক করতে হবে। চুরি করা অর্থকে কনডোমিনিয়াম, গুদাম ও দামি প্রতীকী সম্পত্তিতে রূপান্তরের পথ বন্ধ করতে হবে।
চতুর্থত, কম্পাউন্ডে আটকে থাকা মানুষদের সুরক্ষা দিতে হবে। ভুক্তভোগী শনাক্তকরণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, পাচারের শিকার কর্মীদের বাধ্য হয়ে করা অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং জাতীয়তা বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সেবার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্র, আইনি সহায়তা ও নিরাপদে দেশে ফেরার কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করতে হবে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী; তারা ক্ষমতার স্তরবিন্যাসের মানচিত্র তৈরি এবং আর্থিক লেনদেনের ধরন শনাক্ত করতে পারেন।
পঞ্চমত, সীমান্তপারের তদন্তের পরিসর বাড়াতে হবে। সাইবার বিশেষজ্ঞ, আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম কৌঁসুলিদের নিয়ে যৌথ দল গড়তে হবে, যারা আদান-প্রদান করা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করতে পারে। অর্থপ্রবাহ ব্যাহত করতে সম্পদ জব্দ করতে হবে এবং সেই অর্থ ভুক্তভোগীদের সহায়তা ও আরও তদন্তে কাজে লাগাতে হবে। সীমান্তে কম্পাউন্ড থাকলে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী বাহিনীকে আঞ্চলিক টাস্কফোর্সের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। শনাক্তকরণ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যবর্তী সময় কমানোই লক্ষ্য।
সবশেষে, জনমত ও চাপ বজায় রাখতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রকাশ করতে হবে, অর্থপাচারে জড়িত প্রতিষ্ঠানের নাম জানাতে হবে এবং নির্যাতনের তথ্য নথিবদ্ধ করা স্বাধীন গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমর্থন করতে হবে। অন্ধকারেই এই শিল্পের বিকাশ ঘটে। স্বচ্ছতা সুরক্ষা দেওয়ার খরচ বাড়ায় এবং সংস্কার ত্বরান্বিত করে।
সারকথা
- যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপে কম্বোডিয়ার প্রিন্স গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ১৪৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে; ১ লাখ ২৭ হাজার বিটকয়েন জব্দ এবং লন্ডনের সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
- ২০২৪ সালে অনলাইন জালিয়াতিতে মার্কিনদের অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে; বিনিয়োগ ও প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলার প্রতারণায় ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
- পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি, চীনা ধূসর পুঁজির ঢল এবং দ্রুত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রতারণার কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে।
- কম্বোডিয়া এখনো একটি কেন্দ্রীয় ঘাঁটি; সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ অব্যাহত এবং কম্পাউন্ডে নির্যাতনের প্রমাণ নথিবদ্ধ হয়েছে।
- মিয়ানমারের শুয়ে কোক্কো ও কে কে পার্কের কেন্দ্রগুলো মিলিশিয়াদের অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত এবং নিয়ন্ত্রিত অভিযানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়।
- লাওসের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলটি সুরক্ষিত ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে, যেখানে বেছে বেছে আইন প্রয়োগ করা হয়েছে।
- পোগো নিষিদ্ধ করে এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিচার করে ফিলিপাইন ধারাবাহিক আইন প্রয়োগের নজির দেখিয়েছে, যদিও পরিচালকেরা আড়ালে চলে গেছেন।
- যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্ক্যাম সেন্টার স্ট্রাইক ফোর্স গঠন করেছে এবং নিষেধাজ্ঞা বাড়ছে, তবে সহায়ক নেটওয়ার্কগুলোর ওপর এখনো সীমিত চাপ রয়েছে।
- কার্যকরভাবে এই শিল্পকে ব্যাহত করতে হলে সহায়তাকারীদের লক্ষ্যবস্তু করা, ক্রিপ্টো ও সম্পত্তি খাতে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা বাড়ানো এবং সীমান্তপারের তদন্তের পরিসর বাড়ানো জরুরি।






