জাপানের করপোরেট খাতে আগাম অবসরের পরিকল্পনা তীব্রভাবে বাড়ছে
উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং বয়স্ক কর্মীর আধিক্য থাকা কর্মীবাহিনীকে নতুন করে সাজানোর লক্ষ্যে ২০২৫ সালে জাপানের করপোরেট খাতে আগাম অবসর ও স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার কর্মসূচি দ্রুত বাড়ছে। ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো আগাম অবসরের জন্য ১১,০৪৫ কর্মীকে লক্ষ্য করেছে, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ তৎপরতা মূলত টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাইম মার্কেটকেন্দ্রিক। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, খাদ্য, ধাতব পণ্য ও যন্ত্রপাতি খাতের কোম্পানিগুলো এতে এগিয়ে রয়েছে। সাধারণত ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের লক্ষ্য করে এসব প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। দেশটির দীর্ঘদিনের আজীবন চাকরি ও জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক বেতনব্যবস্থার তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক বাজারে কঠোর প্রতিযোগিতার মুখে সক্ষমতা জোরদার করাই এর উদ্দেশ্য।
সূচিপত্র
- জাপানের করপোরেট খাতে আগাম অবসরের পরিকল্পনা তীব্রভাবে বাড়ছে
- স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার এ প্রবণতার কারণ কী
- কোন কোম্পানিগুলো কর্মী কমাচ্ছে, কোথায় চাকরি রয়েছে
- বয়স্ক কর্মীবাহিনী কীভাবে কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে
- প্রযুক্তি ও এআই: সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা
- নীতিগত সিদ্ধান্ত ও করপোরেট পদক্ষেপ
- প্রবৃদ্ধি ও মজুরির জন্য এর অর্থ কী
- মূল বিষয়গুলো
বিনিয়োগকারীদের চাপও একটি কারণ। কোম্পানিগুলোর ওপর বেশি মুনাফা দেওয়া এবং মূলধনের দক্ষতা বাড়ানোর প্রত্যাশা বাড়ছে। ২০২৫ সালে অবসর কর্মসূচি চালু করা ৪১টি কোম্পানির মধ্যে ২৮টি মুনাফা করেছে, আর লক্ষ্য করা পদগুলোর ৭৭ শতাংশই ছিল এসব মুনাফাকারী প্রতিষ্ঠানে। এতে স্পষ্ট, এ পদক্ষেপ শুধু সংকটে থাকা নিয়োগকর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক কোম্পানি কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে কৌশলগত পুনর্গঠনও করছে, প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলোতে সম্পদ সরিয়ে নিচ্ছে এবং মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ ব্যবসা সংকুচিত করছে। একই সময়ে কিছু নিয়োগকর্তা অবসরের বয়স বাড়িয়ে অন্তত ৬৫ বছর করেছে, অথবা আনুষ্ঠানিক অবসরের পরও কাজের সুযোগ দিচ্ছে। তবে শিল্পখাত ও কোম্পানির আকারভেদে এ চর্চায় ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।
স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার এ প্রবণতার কারণ কী
এ পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছে জনমিতি। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জনসংখ্যার দেশ জাপান। দেশটির প্রতি ১০ জনের একজনের বেশি মানুষের বয়স ৮০ বছর বা তার বেশি, আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স ৬৫ বছরের ওপরে। জন্মহার জনসংখ্যা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয় স্তরের অনেক নিচে। সরকার ও শিল্পখাতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দশকে শ্রমিকের তীব্র ঘাটতি দেখা দেবে। অংশগ্রহণ ও উৎপাদনশীলতা না বাড়লে ২০৪০ সাল নাগাদ অর্থনীতিতে লাখ লাখ কর্মীর ঘাটতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মানুষের আয়ু বাড়ায় পেনশন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা কর্মীবাহিনীতে জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক বেতনকাঠামো বজায় রাখতে কোম্পানিগুলোর ব্যয়ও বাড়ছে।
করপোরেট সুশাসন সংস্কারও গুরুত্বপূর্ণ। পুঁজিবাজারের নির্দেশনায় মুনাফা, শেয়ারের বাজারমূল্য ও বইমূল্যের অনুপাত এবং মূলধন বরাদ্দে শৃঙ্খলার ওপর নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আরও সোচ্চার সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি এ তদারকি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ব্যবসায়িক পোর্টফোলিও পর্যালোচনা, দুর্বল ইউনিট বন্ধ বা বিক্রি এবং ব্যয় কমাতে চাপ দিচ্ছে। জাপানে বাধ্যতামূলক ছাঁটাই এখনো সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল। তাই জোরপূর্বক ছাঁটাই এড়িয়ে নতুন কৌশলের সঙ্গে কর্মীসংখ্যা সামঞ্জস্য করার তুলনামূলক দ্রুত উপায় হিসেবে আগাম অবসর কর্মসূচি বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ নতুন প্রবণতা কাজের পরিমাণের পাশাপাশি কাজের মান নিয়েও। মহামারির আগে অনেক প্রতিষ্ঠান অলিখিত কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কর্মীসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করত। উৎপাদনশীলতা ও মুনাফা বাড়ানোর চাপ বাড়ায় ভারসাম্য বদলেছে। দাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ শিনতারো ইওয়াই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলেছেন। প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ও ডিজিটাল সরঞ্জাম কীভাবে একই ধরনের একাধিক পদ বিলুপ্ত করতে পারে, তা বর্ণনা করে তিনি বলেন:
যেভাবে চলছিল, সেভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়। উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কোন কোম্পানিগুলো কর্মী কমাচ্ছে, কোথায় চাকরি রয়েছে
চলতি বছর বেশ কয়েকটি পরিচিত কোম্পানি আগাম অবসর বা পুনর্গঠনের পথে হেঁটেছে। প্যানাসনিক, জাপান ডিসপ্লে, মিতসুবিশি ইলেকট্রিক, মিতসুবিশি কেমিক্যাল গ্রুপ ও মেইজি হোল্ডিংস বয়স্ক কর্মীদের জন্য প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ধাতব পণ্য ও যন্ত্রপাতি খাতে এর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। এসব খাতে পুরোনো পণ্যসারি, জটিল সরবরাহব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয়করণের চাপ বেশি। ভোক্তাদের চাহিদার পরিবর্তন ও উপকরণের বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে খাদ্য উৎপাদকরাও এ তালিকায় রয়েছে।
মেডিকেল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অলিম্পাস এন্ডোস্কোপি ব্যবসার পুনর্গঠন ও কার্যক্রম সুবিন্যস্ত করতে প্রায় ২,০০০ পদ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। উদ্যোগটি বৈশ্বিক পরিসরে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রয়োজনের সঙ্গে জাপানি কোম্পানিগুলো কীভাবে দেশের অভ্যন্তরের জনমিতিক চাপের ভারসাম্য রক্ষা করছে, তা-ও এতে স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রস্তাবের মধ্যে এককালীন অর্থ, চাকরি খোঁজায় সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ ভাউচার থাকে। কর্মসূচিগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু থাকে। নির্দিষ্ট ধরনের কর্মী আবেদন করবেন, সে উদ্দেশ্যে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান পছন্দের বয়সসীমা বা চাকরির শ্রেণিও জানিয়ে দেয়। এসব পদক্ষেপে এখনই বেতনভাতা ব্যয় কমলেও সফটওয়্যার, উন্নত উৎপাদন ও ডিজিটাল বিক্রির মতো ক্ষেত্রে মধ্য-ক্যারিয়ারের বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়।
বয়স্ক কর্মীবাহিনী কীভাবে কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে
জাপানের শ্রমবাজারে কর্মীর ঘাটতি রয়েছে, তবে কাজের ধরন বদলাচ্ছে। অনেক নিয়োগকর্তা অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৬৫ বছর করেছেন। ২০২১ সাল থেকে কোম্পানিগুলোকে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। একই সময়ে, বড় কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান অংশ কর্মীদলকে নতুন করে সাজাতে আগাম অবসর কর্মসূচি ব্যবহার করছে। এ পরিবর্তনে এমন একটি মডেল থেকে সরে আসা প্রতিফলিত হচ্ছে, যেখানে কর্মীরা মূলত চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে পদোন্নতি পেতেন; এখন নির্দিষ্ট দক্ষতা ও কর্মদক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলোতে দ্রুত কাজ শুরু করতে পারেন—এমন প্রতিভার খোঁজে মধ্য-ক্যারিয়ারের কর্মী নিয়োগ বেড়েছে।
চাকরি ছাড়া বয়স্ক কর্মীদের জন্য এ রূপান্তর সহজ নয়। উন্নত অর্থনীতিগুলোতে করা গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০-এর শেষ ও ৬০-এর কোঠায় চাকরি হারানো কর্মীরা সাধারণত দীর্ঘ সময় বেকার থাকেন এবং নতুন চাকরি পেলে বেশি মজুরি হারান। কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন বা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন—এমন মানুষের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। নীতিবিশেষজ্ঞরা আজীবন শিক্ষা, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং বয়স অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মচর্চার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। নমনীয় কর্মঘণ্টা, কর্মক্ষেত্রের শারীরিক বিন্যাসে পরিবর্তন এবং কাজের ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন বয়স্ক কর্মীদের দীর্ঘ সময় উৎপাদনশীল থাকতে সহায়তা করতে পারে। চাকরি বদলানো অনিবার্য হলে কার্যকর কর্মসংস্থান সহায়তা ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রশিক্ষণ চাহিদাসম্পন্ন পেশায় সফলভাবে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
প্রযুক্তি ও এআই: সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা
শিল্পকারখানায় রোবোটিকস ব্যবহারে জাপান এগিয়ে থাকলেও অফিস ও সেবাখাতে ডিজিটাল সরঞ্জামের বিস্তার অসম। বয়স্ক জনগোষ্ঠী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন গবেষণায় এর গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। পেশাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বয়স্ক কর্মীবাহিনী শ্রমিকের ঘাটতিতে অবদান রাখে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে জাপানি পেশাগুলোতে এআই সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ অন্যান্য কয়েকটি উন্নত অর্থনীতির চাকরির তুলনায় কম। এই কম ব্যবহারের কারণে শ্রমিকের ঘাটতি সামাল দিতে এআইয়ের সক্ষমতা কাজে লাগানোর গতি মন্থর হতে পারে, বিশেষ করে নিয়মিত অফিসের কাজ বা সেবাখাতে, যেখানে অন্যত্র এআই ইতিমধ্যে উৎপাদন বাড়াচ্ছে।
প্রযুক্তি সহায়তা করতে পারে, তবে কাজের ধরনগুলোর মিশ্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কাজে এআই সহায়ক, আবার কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয়করণের ঝুঁকিতে রয়েছে। মূল বিষয় হলো দক্ষতার স্থানান্তর। পুরোনো ধরনের পদ ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের এমন চাকরিতে যাওয়ার পথ দরকার, যেখানে তাদের বিদ্যমান দক্ষতার সঙ্গে মেলে এমন যোগ্যতা কাজে লাগে। এর জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন ধাপে ভাগ করা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিয়োগকর্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য সনদ। যেসব কোম্পানি আগাম অবসরের সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে পদবদলের জোরালো উদ্যোগ যুক্ত করে, তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সম্ভাবনা বেশি। এ ধরনের সেতুবন্ধন না থাকলে আগাম অবসরে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান হারাতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নীতিগত সিদ্ধান্ত ও করপোরেট পদক্ষেপ
বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সরকারি নীতিতে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। প্রচলিত অবসরের বয়সের পরও কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছে জাপান; বয়স্ক কর্মীদের কাজ অব্যাহত রাখার সুযোগ এবং পেনশন গ্রহণে নমনীয়তায় সহায়তা করছে বিভিন্ন সংস্কার। আরও বেশি মানুষকে কর্মক্ষেত্রে রাখা, জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোই এর উদ্দেশ্য। আরও বিস্তৃত কিছু পদক্ষেপ এ লক্ষ্যকে জোরদার করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কর্মীদের কাজ থেকে সরে যেতে বাধ্য করে এমন স্বাস্থ্যসমস্যা প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে জোর দেওয়া, কর্মজীবনজুড়ে প্রশিক্ষণে বিনিয়োগে নিয়োগকর্তাদের উৎসাহিত করা এবং বয়সভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী নিয়মের কার্যকর প্রয়োগ। শিশুযত্নের সুযোগসহ নারীর কর্মসংস্থানে সহায়তাও শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ায় এবং জনসংখ্যা হ্রাসের প্রভাব সামাল দিতে সাহায্য করে।
বয়স্ক কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে ভালো করবেন কি না, তা নির্ধারণ করে দৈনন্দিন চর্চা—যার নিয়ন্ত্রণ কোম্পানির হাতে। কাজভিত্তিক বেতন, দায়িত্বের স্পষ্ট সংজ্ঞা এবং কর্মদক্ষতার সঙ্গে যুক্ত মজুরির দিকে অগ্রসর হলে অভিজ্ঞ কর্মীদের চাহিদা বাড়তে পারে। কাজের শারীরিক ধরনে পরিবর্তন, বেশি স্বায়ত্তশাসন ও নমনীয় কর্মসূচি ৬০ বছর পেরিয়েও মানুষকে কাজে রাখতে সহায়তা করে। কর্মীদের সংকুচিত হতে থাকা ইউনিট থেকে প্রবৃদ্ধিশীল ইউনিটে সরিয়ে নেওয়ার কর্মসূচি এবং শেখার ক্ষেত্রে জোরালো বিনিয়োগ কোম্পানিগুলোকে নির্বিচারে কর্মী ছাঁটাই এড়াতে সাহায্য করে। গাড়ির বিদ্যুতায়ন থেকে সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল সেবা—দ্রুত পরিবর্তনশীল খাতগুলোতে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়া, লক্ষ্যভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্দক্ষতা অর্জনের সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে উৎপাদনশীলতা বাড়বে কি না।
প্রবৃদ্ধি ও মজুরির জন্য এর অর্থ কী
আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির গতি কমার সময়েই আগাম অবসরের এ ঢেউ চলছে। বৈশ্বিক উৎপাদনে এশিয়ার অবদান এখনো শক্তিশালী, তবে বাণিজ্যঝুঁকি ও আর্থিক পরিস্থিতির কঠোরতা বিনিয়োগে চাপ সৃষ্টি করছে। জাপানি রপ্তানিকারকদের সামনে মিশ্র পরিস্থিতি: প্রযুক্তি খাতের চাঙ্গা চক্র কিছু কোম্পানিকে সহায়তা করছে, আর দুর্বল বিদেশি চাহিদা অন্যদের ওপর চাপ দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মুনাফার হার রক্ষা এবং বেশি মুনাফা দিতে পারে এমন প্রকল্পে মূলধন কেন্দ্রীভূত করতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পুনর্গঠনের পথ নিচ্ছে। এতে শেয়ারহোল্ডারদের আয় বাড়তে পারে, তবে নতুন বিনিয়োগকে টেকসই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে রূপ দিতে মানবসম্পদ ধরে রাখার গুরুত্বও বাড়ে।
পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এ পরিবর্তন ঝুঁকি ও সুযোগ—দুটিই নিয়ে আসে। আগাম অবসরের প্যাকেজ স্বল্প মেয়াদে আয়ের ধাক্কা সামাল দিতে পারে। বড় চ্যালেঞ্জ হলো, স্থিতিশীল ও জ্যেষ্ঠ পদগুলোর বদলে ভালো বেতন দেয় এবং বয়স্ক কর্মীদের শক্তিকে কাজে লাগায়—এমন নতুন চাকরি তৈরি করা। পুরোনো উৎপাদনশিল্পের ঘনত্ব বেশি, এমন অঞ্চলে নিয়োগকর্তারা কার্যক্রম সংকুচিত করায় সমন্বয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে। কোম্পানিগুলো চাকরি ছাড়ার সুযোগের সঙ্গে পুনঃপ্রশিক্ষণ ও মধ্য-ক্যারিয়ারের কর্মী নিয়োগ যুক্ত করলে স্থানীয় দক্ষতার ভিত্তি প্রবৃদ্ধিশীল খাতের উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। তা না হলে বেকারত্বের সময় দীর্ঘ হতে পারে এবং ভোগব্যয় দুর্বল হতে পারে। জাপানের জনমিতিক বাস্তবতায় বৃহত্তর জনসংখ্যার ওপর নির্ভর না করে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, উপযুক্ত চাকরির সঙ্গে কর্মীর মিল এবং প্রযুক্তির আরও কার্যকর ব্যবহার জরুরি।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত জাপানের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো আগাম অবসরের জন্য ১১,০৪৫ কর্মীকে লক্ষ্য করেছে, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
- ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ৯০ শতাংশের বেশি টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাইম মার্কেটের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, খাদ্য, ধাতব পণ্য ও যন্ত্রপাতি খাতের কোম্পানিতে কর্মরত।
- বেশির ভাগ কর্মসূচি ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের লক্ষ্য করে, যা আজীবন চাকরি ও জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক বেতনব্যবস্থা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত।
- বিনিয়োগকারীদের চাপ এবং মূলধনের দক্ষতা নিয়ে পুঁজিবাজারের নির্দেশনা কোম্পানিগুলোকে কার্যক্রম সুবিন্যস্ত ও সম্পদ পুনর্বণ্টনে ঠেলে দিচ্ছে।
- ২০২৫ সালে অবসর কর্মসূচি চালু করা ৪১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮টি মুনাফা করেছে এবং লক্ষ্য করা পদগুলোর ৭৭ শতাংশ ছিল এসব প্রতিষ্ঠানে।
- এন্ডোস্কোপি ব্যবসা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে অলিম্পাস প্রায় ২,০০০ পদ কমানোর পরিকল্পনা করেছে, যা ব্যবসায়িক পোর্টফোলিও পুনর্গঠনের বৃহত্তর প্রবণতার ইঙ্গিত।
- জাপানের জনসংখ্যা বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক; শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ও উৎপাদনশীলতা না বাড়লে ২০৪০ সাল নাগাদ অর্থনীতিতে কর্মীর ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
- গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক কর্মীবাহিনী শ্রমিকের ঘাটতি বাড়ায় এবং উৎপাদনশীলতায় চাপ ফেলতে পারে; অন্যদিকে জাপানি চাকরিতে এআই ব্যবহারের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম।
- চাকরি হারানোর পর বয়স্ক কর্মীদের প্রায়ই দীর্ঘ সময় বেকার থাকতে হয় এবং বেশি মজুরি হারাতে হয়, যা প্রশিক্ষণ ও বয়স অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মচর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
- ৬০ বছরের পরও কাজ, নমনীয় অবসর, প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং উন্নত কর্মপরিবেশে সহায়ক নীতিগত পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এ রূপান্তর প্রবৃদ্ধি ও মজুরিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে।






